
আসসালামু আলাইকুম!
Alorpotherjatri - আলোর পথের যাত্রীর মূল উদ্দেশ্য বাংলার অবহেলীত স্থানে মসজিদ নির্মান/সংস্কার, লিল্লাহ বোর্ডিং, মাদরাসা, দাতব্য চিকিৎসা, কন্যাদায়গ্রস্থ ও প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদান সহ বিভিন্ন ইসলামিক সমাজকল্যান মূলক কর্মকান্ডে আর্থিক অনুদান প্রদানের লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ করাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এছাড়াও কোরআন সুন্নাহ অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করার জন্য মুসলিম উম্মাদের উৎসাহ প্রদান ও দ্বিন ইসলাম এর দাওয়াত সকলের দ্বারে দ্বারে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। সকল সুবিধা বঞ্চিতদের পাশে আমরা আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ। সকল ধর্মপ্রান মুসলমান ভাইদের প্রতি অনুরোধ আমাদের সাথে থাকবেন ইনশাআল্লাহ। আপনাদের সকলের সহযোগীতায়ই এগিয়ে চলছে আমাদের এই সংগঠন। তাই সকলের সহযোগীতা কামনা করছি.....
ধন্যবাদ...
আসসালামুআলাইকুম..................
আমাদের লক্ষ্য ঃ

> সমগ্র বাংলাদেশে যে সকল স্থানে মানুষ অর্থাভাবে মসজিদ তৈরী করতে না পারার দরুন জামাতে নামাজ আদায় করতে পারছেন না তাদের এলাকায় মসজিদ নির্মান করে দেয়া অথবা নির্মানে সহায়তা করা।
> যাদের মসদিজ আছে কিন্তু মুসুল্লিগণ অর্থাভাবে মসজিদের সংস্কার কাজ করতে না পারার কারণে নিয়মিত নামাজ আদায়ে সমস্যা হচ্ছে অথবা আদায় করতে পারছেন না সেই সকল মসজিদের সংস্কার কাজে সহায়তা প্রদান।
> বিভিন্ন লিল্লাহ বোর্ডিং, ইয়াতিম খানা, মাদ্রাসায় শিক্ষা সামগ্রী, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান।
> হতদরিদ্রদের চিকিৎসা সেবা প্রদান সহ তাদের সার্বিক সহযোগীতা করা।
> কন্যাদায়গ্রস্থ অসমর্থ পিতাকে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে মেয়ের বিবাহ কার্য সম্পাদনে সহায়তা প্রদান।
> শীতার্তদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ।
> প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদান।
> বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রমে সহায়তা প্রদান সহ
বিভিন্ন সমাজ কল্যানমূলক কর্মকান্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
আপনারা চাইলে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রমের সাথে অংশগ্রহণ করতে পারেন। আপানাদের সকলের অনুদানেই চলছে আমাদের এই দ্বিনী সংগঠন।
আমাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা খুব শিঘ্রই আপনাদের জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।
আসসালামু আলাইকুম,আলোর পথের যাত্রীর প্রিয় সহযাত্রী ভাই ও বোনেরা, কেমন আছেন সবাই। আমরা আলোর পথের যাত্রীর পক্ষ থেকে গত ১৩/০৪/২০১৮ ইং তারিখ গিয়েছিলাম আমাদের সেই কাংখিত মসজিদ কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরীর মসজিদটিতে অনুদান দিতে। আল্লাহর অশেষ রহমতে, আপনাদের দোয়ায় ও সহযোগীতায় আমরা সেখানে ৫০,০০০/- টাকা অনুদান দিতে পেরেছি। আলহামদুলিল্লাহ। নাগেশ্বরী এলাকার লোকদের বিশেষ করে রুহুল ভাই, তার পরিবার এবং অন্যান্য সকলের আতিথেয়তা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল ০৯:০০ টায় ঢাকার আসাদগেট থেকে। কিন্তু বাস আসতে আসতে সকাল ১১:০০ টা বেজে গেল। জিজ্ঞেস করলাম কতক্ষণ লাগবে? জানতে পারলমা সর্বোচ্চ আট ঘন্টা লাগবে, তার মানে সন্ধা সাতটার মধ্যে আমরা নাগেশ্বরী পৌছব ইনশাআল্লাহ। কিন্তু বিধি বাম। গাবতলী থেকে টাঙ্গাইল পৌছতেই রাত আটটা বেজে গেল। সারা রাস্তায় শুধু জ্যাম আর জ্যাম। অবশেষে রাত দশটা ত্রিশ মিনিটের সময় যাত্রীদের অনুরোধে ড্রাইভার বাসটি সিরাজগঞ্জের একটি হাইওয়ে হোটেলের সামনে থামাল। এমনিতেই প্রচন্ড গরম পরছিল তার উপরে আশপাশের গাড়িগুলোর যান্ত্রিক গরম, রাস্তার ধুলা এবং ঘামে সমস্ত শরিরটাকে ডাষ্টবিনের কোন আবর্জনা মনে হচ্ছিল। ক্ষুধা এবং পিপাশায় এমনিতে প্রান যায় অবস্থা তাছাড়ও নিজে এমনিতেই ব্যকপেইনের রোগী তার উপরে বাসের ঝাকুনিতে মাঝে মধ্যেই ব্যাথায় কোকিয়ে উঠতে হয়েছে। গাড়ি হোটেলের সামনে থামার পরে গাড়ী থেকে নেমে মনে হয় জীবন ফিরে পেয়েছি। সাথে সাথে ওয়াশরুমে গিয়ে যখন পানির ছোয়া পেলাম ইচ্ছে হচ্ছিল পানির কল ছেড়ে তার নিচে বসে থাকি। শেষমেষ ওখান থেকে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া দাওয়া করে আবার কিছুক্ষনের মধ্যেই বাস তার গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করল। আমাদের নাগেশ্বরী পৌছতে রাত চারটা বেজে গেল। কিন্তু বাস থেকে সকল ক্লান্তি ভুলে গেলাম যখন দেখলাম যার ডাকে আমরা নাগেশ্বরী গিয়েছি সেই রুহুল ভাই এবং তার মামা রফিকুল ইসলাম সেই বিকেল থেকে আমাদের অপেক্ষায় বাসষ্টপে দাড়িয়ে আছেন। পুরো পৃথিবী যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখন এই দুই ব্যক্তি অন্ধকারের মধ্যে ঠায় দাড়িয়ে আছেন আমাদের অপেক্ষায়। যাতে আমাদের এই অজানা অচেনা যায়গায় কোন সমস্যা না হয়। যখন শুনেছেন আমরা রওয়ানা

দিয়েছি সাথে সাথেই তারা আমাদের রিসিভ করা এবং আপ্যায়নের বন্দোবস্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পরেন। বাস থেকে নেমে রফিকুল মামা এবং রুহুল ভাইয়ের সাথে রওয়ানা দিলাম তাদের বাড়ীর উদ্দেশ্যে এবং পনেরো মিনিটের মধ্যেই পৌছে গেলাম তাদের বাড়ী। দূড় থেকে দেখলাম অন্ধকারের মধ্যে কে যেন হারিকেন নিয়ে দাড়িয়ে আছেন। কাছে গিয়ে যখন পৌছলাম দেখলাম রুহুল ভাইয়ের বাবা অন্ধকারের মধ্যে হারিকেন নিয়ে আমাদের আসার প্রতিক্ষায় দাড়িয়ে আছেন। তাদের এলাকায় বন্যা হওয়ার কারণে দুইদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই তাই এই হারিকেন। সত্যিই তাদের এই আতিথেয়তা ক্রমশ মুগ্ধ হচ্ছিলাম। চমকে গেলাম যখন আমাদের খাবার টেবিলে নিয়ে যাওয়া হল। রাত তখন চারটা ত্রিশ মিনিট, টেবিলে গিয়ে দেখি সব খাবার থেকে ধোয়া উঠতেছে অর্থাৎ সদ্য রান্না শেষ হয়েছে। এবং এই কৃতিত্ব রুহুল ভাইয়ের বৃদ্ধা মায়ের। নিমিশেই সকল ক্লান্তি, অবসন্নতা মন থেকে মুছে গেল এবং শ্রদ্ধায় মাথা অবনত হয়ে গেল। যে পুরো পরিবার আমাদের জন্য সারারাত ধরে কিভাবে আপ্যায়ন করবে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ করে আর ঘুমাতে গেলাম না কারণ তখন প্রায় ফজরের ওয়াক্ত হয়ে এসেছে। তাই বসে বসে রুহুল ভাইয়ের বাবার সাথে গল্প করতে করতেই ফজরের আজান হল এবং আমরা মসজিদের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ আমরা যে মসজিদে অনুদান দিতে গেছি সেখানে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করলাম। নামাজ শেষ করে বাসায় এসে শুয়ে পরতেই দুচোখ কখন বুজে গেল টের পাইনি। ঘুম ভাংগল সকাল আটটায়। ঘুম থেকে উঠথেই রুহুল ভাইয়ের বাবা এসে তোয়ালে দাতের মাজন দিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই দেখি আমাদের সামনে হাজির হতে লাগল বিভিন্ন ফল এবং বাহারী নাশতা। অর্থাৎ আমরা ঘুমালেও তারা কেহই আর ঘুমাননি আমাদের সকালের আপ্যায়নের জন্যই জেগে থেকেছেন এবং এগুলো তৈরী করেছেন। নাস্তা শেষ হতেই এলাকার গন্যমান্য এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, মসজিদের মুসুল্লিগণ আমাদের সাথে কুশল বিনিময় করতে আসা শুরু করলেন। অবশেষে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, জনাব মোঃ সহিদুল ইসলাম (মসজিদ কমিটির সভাপতি), সহ সভাপতি, জনাব মোঃ শহিদুল ইসলাম (ক্যাশিয়ার), আহম্মদ আলী ব্যাপারী, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মাওঃ মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ আলা উদ্দিন, মোঃ মিন্টু, মসজিদের অন্যান্য মুসুল্লিগণ এবং স্থানীয় লোকদের উপস্থিতিতে এবং সকলের অনুরোধক্রমে আলোর পথের যাত্রীর পক্ষ থেকে গলাচিপা পটুয়াখালী প্রতিনিধি জনাব ইলিয়াছ শাহ রিপন মসজিদ কমিটির সহ সভাপতি, রুহুল ভাইয়ের বাবা জনাব আলহাজ্ব মোঃ আজগার আলী সাহেবের হাতে ৫০,০০০/- টাকার চেক তুলে দেন। আমাদের এই অনুদান আসলে তাদের মসজিদের কাজের তুলনায় অতি সামান্য কিন্তু তাতেও উপস্থিত মুসুল্লিগণ এবং স্থানীয় জনগন সকলেই খুব খুশি এবং তারা আমাদের আলোর পথের যাত্রীর সকল সদস্যগণকে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের সময় সেখানে আমন্ত্রন করেন এবং আগামী শুক্রবার ২০/০৪/২০১৮ তারিখে আমাদের জন্য জুমার পরে দোয়া করবেন বলে জানান। এছাড়াও আমাদের এই অনুদানের সংবাদ পেয়ে অন্য একটি মসজিদের অনুদানের জন্যও আমাদের নিকট মৌখিক আবেদন আসে। আমাদের কাজে সন্তুষ্ট হয়ে রুহুল আমিন ভাই আমাদের সাথে আজিবন থাকার এবং অনুদান দেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। মসজিদের অনুদানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রুহুল ভাই, রফিকুল ইসলাম, মোঃ মোখলেছুর রহমান এবং মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম ভাই আমাদের নিয়ে ঘুরতে বের হন। আমরা চলে যাই সোনাখালি নদী যেটি সরাসরি ভারত থেকে আগত, সোনাখালী স্থল বন্দর এবং যাই রংপুর বিভাগ সহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট এবং ভারতীয় বিএসএফদের প্রতি ঘৃনাজড়িত একটি স্থানে।
আপনাদের অবশ্যই মনে আছে ফেলানির কথা। ২০১১ সালের ৭ই জানুয়ারী সেই টকবগে কিশোরী মাত্র ১৪ বছর বয়সে যাকে ভারতীয় হায়েনারূপী কিছু বিএসএফ নামধারী জানোয়ারের লালশার স্বিকার হয়ে পাশবিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অসহ্য যন্ত্রনা এবং ঘৃনা নিয়ে চলে যায় না ফেরার দেশে। নিজেদের দোষ ঢাকতে সেই নিস্পাপ চঞ্চলা অবুঝ ফেলানির নিথর দেহটাকে কাটাতারের বেড়ার সাথে ঝুলিয়ে গুলি করে ঝাঝরা করে দেয় ফেলানির দেহটাকে। আমি এই ইতিহাস নতুন কর বলতে চাইনা কারণ আপনারা সবাই এটা সম্পর্কে অবগত আছেন। যেখানে ফেলানিকে ঝুলিয়ে রাখা হয় সেখানে এখন প্রসাশণের পক্ষ থেকে যেতে নিষেধ আছে এবং সেই কাটাতারের বেড়া কিছুটা দূড়ে থাকায় আমরা ভিডিও করতে পারিনি। কারণ আমাদের কাছে ভিডিও করার মত সেরকম হাই কোয়ালিটি ক্যামেরা নেই। মোবাইল দিয়ে দূড়ের সেই কাটাতার আপনাদের দেখাতে পারব না তাই সেই ভিডিও আপলোড দিলাম না। এ জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে পরে যদি ভাল কোন ক্যামেরা আমরা পাই তখন এর এরকম ভুল হবে না ইনশাআল্লাহ।
সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ যখন বাংলা নববর্ষের আনন্দে ভেসে যাচ্ছে ঠিক সেই মুহুর্তে আমরা আলোর পথের যাত্রীর টিম উপস্থিত হই রংপুর বিভাগের, কুড়িগ্রাম জেলার, নাগেশ্বরী উপজেলার, রামখান ইউনিয়নের, কালোনিটারী গ্রামে ফেলানিদের বাড়ী। দেখতে চেয়েছিমাল আজ এই উৎসব মুখর দিনে তাদের পরিবারের দিন কেমন কাটছে। দেখা হল ফেলানির মায়ের সাথে, জানতে চাইলাম ফেলানি সম্পর্কে। মহিলার চোখ ছল ছল করে উঠল মনে হচ্ছিল তার ভেতরে এক অতৃপ্ত ইচ্ছা বের হতে চাইছে। সে তেমন কিছুই আমাদের বলতে পারল না শুধু তার একটিই দাবি তার মেয়েকে যারা এভাবে মেরেছে তাদের বিচার চায়। ফেলানিকে হত্যা করা হয়েছে সেটা তাদের পরিবার প্রথমে জানত না কারণ ভারতিয় বিএসএফ তাদের পুরো পরিবারকে আটকে রাখে এবং প্রায় দেড়মাস পরে তৎকালিন সরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুনের প্রচেষ্টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে দেশে ফেরৎ আনেন এবং তারপরে তারা জানতে পারেন তাদের সেই ফুটফুটে আদরের ফেলানী আর নেই। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে তখন তিনলক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন যার দ্বারা তারা মাথা গোজার মত একটি ঘর এবং পরিবারের আয়ের জন্য মুদি দোকান শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাদেরকে আশ্বস্থ করা হয়েছিল যে ফেলানি হত্যার বিচার হবে। কিন্তু আজ ছয় বছর পার হয়ে সাত বছরে পরেছে ফেলানি হত্যার কোন বিচার হয়নি এবং আদৌ হবে কিনা সন্দেহ আছে। ফেলানির মা এবং তার পরিবারের দাবী তারা ফেলানি হত্যার উপযুক্ত বিচার চান।
অবশেষে আমাদের প্রগ্রাম শেষ করে দুপুর দুইটার সময় খাবার দাবারের রাজকীয় আয়োজনে অংশগ্রহন করলাম এবং ভোজন শেষ করে বিশ্রাম শেষে রওয়ানা হলাম ঢাকার উদ্দেশ্যে। আমাদের এগিয়ে দিতে বাস ষ্টপ পর্যন্ত আসল রুহুল ভাইয়ের ছোটভাই মোঃ রবিউল ইসলাম এবং ট্রেন ষ্টেশন পর্যন্ত সাথে ছিলেন রুহুল ভাই। দুই দিন ছুটি থাকার কারণে কোন বাস বা ট্রেনেই টিকেট ছিল না কিন্তু রুহুল ভাইয়ের অতি ঘনিষ্ট এক ছোট ভাই মোঃ মোশাব্বের আলম এর প্রচেষ্টায় আমরা ট্রেনের টিকেট পাই। চমক যে আরও বাকি ছিল বুঝতে পারি যখন মোশাব্বের আলম এর সাথে পরিচয় হল। অত্যান্ত অতিথিপরায়ন একটি ছেলে যে আমাদের কথা শুনে স্ব-দলবলে কমপক্ষে ২৫-৩০ জনের একটি দল নিয়ে আমাদের ট্রেন ষ্টেশনে পৌছে দিল। ট্রেন আসার কথা ছিল রাত ৮:৩০ মিনিটের সময় কিন্তু আসল ৩:২৩ মিনিট লেইটে। রাত ১২:০০ পর্যন্ত স্ব-দল বলে রুহুল ভাইকে সহ আমাদের সঙ্গ দিয়েছেন মোশাব্বের এবং ট্রেন আসলে আমাদের ট্রেনের সিটে বসিয়ে দিয়ে তারপরে আমাদের নিকট থেকে বিদায় নিয়েছেন। সেই আমাদের রাত চারটায় নাগেশ্বরী পৌছা থেকে শুরু করে পরের দিন রাত বারোটা পর্যন্ত ট্রেনে উঠিয়ে দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি মুহুর্তই আমাদের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
পরিশেষে সত্যিই আমি এবং আমার সাথে থাকা গলাচিপা প্রতিনিধী ইলিয়াছ শাহ রিপন নাগেশ্বরবাসীর প্রতি চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার মত ভাষা আমাদের জানা নেই। তাদের আতিথেয়তা, আপ্যায়ন, ব্যবহার এবং সার্বিক সব কিছু মিলিয়ে আমরা মুগ্ধ। ধন্য নাগেশ্বরীবাসী, আপনাদের সাথে কাটানো এই একটি দিন স্মৃতির পাতায় চির অম্লান হয়ে থাকবে।
আলোর পথের যাত্রীর পক্ষ থেকে
মুহাম্মদ গোলাম সরোয়ার
০১৭২২০৫৪৩১৯, ০১৭৮৯১০০০৯০